এক
দেয়ালের গায়ে শব্দের গাথা
ঢাকা পড়ে গেছে ধূসর চুনকামে।
দেয়ালের ওপারে অলকানন্দা বুঝি!
এপারে সন্ধ্যা ,সূর্য গড়িয়ে নামে।
হেঁটে গেল যারা তারা সেসকল পাঠ
না পড়েই হয়ে গেল পার দুদ্দাড় , যে যার মত
উদ্যত মনুমেন্ট, বাসস্ট্যান্ড, সুবিশাল মল
একমুঠি ধূলিমাঠ।
তবু কেউ দুদণ্ড থামে। দাঁড়ায় ।
বৃদ্ধ,উদভ্রান্ত যুবক, ক্লান্ত করুণ তরুণী
বিশুষ্ক করণিক...
দেয়ালের গা হাতড়ায়।
খুঁজে ফেরে পুরানো অক্ষর ।
যদি থাকে সামান্যও দিশা কোত্থাওও ...?
যদি মিলে যায় !
আমরা তো এসেছি ফেলে , ফেলে আসি
রাঁধার অমন চূড়ো করে বাঁধা চুল, কৃষ্ণের বাঁশি।
দুই
বাবার পকেটে মাসমাইনার টাকা
বাবা দুচোখে আনন্দ চেপে হাঁটেন।
সেগুনবাগিচা থেকে ঠিক পাঁচটায়
পলক কয়েকে হাওয়ায় পল্টনে!
তাতে কিছুই আসে যায় না পৃথিবীর।
তবে আমাদের মুখগুলো সব
ভারি অস্থির!
উন্মুখ অপেক্ষা গলা বাড়িয়ে
বারবারই গলি পথে।
মাসমাইনার হাত ধরে আসা
বেলাবিস্কুট চকলেট টফি টিন
আমাদের শিফন ক্যারোলিন দিন
আমাদের বাসাবোর ভাড়াবাসা ।
ঘামভেজা শার্ট আলনায় হ্যাংগারে ..
বাবারই দুই কাঁধ যেন দোলে !
দুই পা থেকে নিত্যদিনের ক্লান্তি
আলগোছে নিজকে খোলে।
আঁটো ফিতে ঢিলে করে
জিরায় জুতোজোড়া!
তিন
তোমার দিকে যতটা ঝুঁকতে চাই
ঠিক পারি না অতটা ।
আঙুলে আঁকড়ে থাকি মাটি।
রুখতে চাই যতটা ক্লান্তি দুপায়ের..
ততটাই হারাই উদ্যম
হাঁটু ভেঙে অসাড় বসে পড়বার কাছে।
দরোজা কবাটে ,বৃক্ষ বল্কলে
আমার জন্য কেবল ম্লান অপেক্ষারা আছে।
হৃতমান ! অবসন্ন সব অপেক্ষা !
আহা! যদি ফের আমার গা ঘেঁষে বাড়ে বনস্থল!
যদি আবার বনস্পতি!
দীর্ঘ ছায়াগণ যেখানে সটান জিরান।
আহা! গ্রাম সোনাখালি!
গামছা মাথায় পিতামহ হাজি আফাজুদ্দিন;
ধানিরঙ বাতাসে উড়ছে সবুজ পিরান।
চার
কথাই জমাই ।
দরকারি সব কথার পরে অদরকারি
বলা নাবলা, শোনা নাশোনা
আনমনা সব কথা।
মুদ্রা যেমন মৃৎপাত্রে সঞ্চয়ে
তেমনি আমি গহন রাত্রের গায়
কথার টুকরো জমাই
অরুন্ধুতি আর্দ্রা স্বাতী তারায় ।
বেশির ভাগই না বলা কথা।
বলতে ভীষণ ইচ্ছা তবু বলি নি যা, এমন কিছু।
কথার ফাঁকে
খা খা করা শূন্যতাকে রাখি।
কেননা দীর্ঘশ্বাস, গা ঘেঁষাঘেঁষি বাঁচে না!
কথাগুলোর কিছু ছন্নছাড়া
উচ্ছন্নে যাওয়ার মত, কয়েকটা তার ফেরারীও ছিল
অনেক দিন!
এক কৃষ্ণচূড়ার ভোরে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে ছিল
তোমার সামনে ।
তোমাকে পাওয়ার অসম্ভব সব স্বপ্ন দেখতো ওরা।
সে সময় তুমি যেসব বলে দমিয়ে রাখতে
সে সবই আমি জমিয়ে রেখেছি নক্ষত্রের দাগে।
কিছু তার ধুলোবালি ঘাস
কিছু দেখা বা না দেখা আকাশ।
কিছু এলোমেলো
কিছু মেঘমন্দ্রমদির রূপসা নদীর
আঠারোবাঁকির পাখির গল্প
দু চারটা ছাতামাথা ব্যর্থ কবিতা
আজো সংকল্প ডানায় ভাসিয়ে রাখি ।
মাথা নত কিছু আহত কথারা আছে
কিছু অসংযত রক্তচক্ষু,
যা সংগত তাই যখন পায় না জীবন !
জীবনতো মূলত তোমাকে পাবার মোহ!
মার খেয়ে খেয়ে মরাই ধার্য
তারপরও বিদ্রোহ!